জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিশ্ব শান্তি, মানবতা ও বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যেকোনো পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে অস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তি, আলোচনা, শিক্ষা ও মানবতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)।
প্রেস সচিব বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব শান্তি, মানবতা এবং বিশ্বায়নের যুগে দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
এম ছালেহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, তিনি জাতিসংঘকে এমন ভূমিকায় দেখতে চান, যেখানে যেকোনো পরিবর্তন আনার হাতিয়ার হবে যুক্তি, আলোচনা, শিক্ষা ও মানবতা; অস্ত্র নয়।’
প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে দেশের নাগরিকদের ক্ষমতায়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে—নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।
তিনি বলেন, জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন পরিকল্পিত উদ্যোগের কথাও প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে তুলে ধরেছেন।
ভাষণ শেষ করার সময় প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা বলেন, যেখানে তরুণেরা নির্দ্বিধায় নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করবে এবং প্রতিটি শিশু নিজের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে। তাঁর ভাষায়, ‘সবার ওপরে মানুষ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পাবে।’
এম ছালেহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর শুধু সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। নিউইয়র্কে চার দিনের সফরে তিনি দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও সাইডলাইন বৈঠকসহ মোট ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরাও প্রায় ৫০টি অতিরিক্ত কর্মসূচিতে অংশ নেন বলে জানান প্রেস সচিব। তাঁর দাবি, এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বক্তব্য ও বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।
সফরে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রেস সচিব। তিনি জানান, সরকারি হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৩৫ জন প্রতিনিধি ছিলেন এবং চার্টার্ড বিমানের পরিবর্তে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে এম ছালেহ বলেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে এনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে মানুষ একে অপরকে সম্মান করবে, বড়রা ছোটদের স্নেহ ও যত্ন করবেন এবং ছোটরা বড়দের শ্রদ্ধা করবে।
দেশের রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গ টেনে প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন দমনপীড়ন ও ভয়ের সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে গেছে। নতুন একটি পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়ে তিনি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি এবং একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘একটি সুন্দর রাষ্ট্র ও মানবিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলার যে সুযোগ এসেছে, আমরা যদি তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হই, তাহলে তা আমাদের কারও জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে না।’
এম ছালেহ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে শুধু সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। সফরকালে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি যেসব বিষয় উত্থাপন ও আলোচনা করেছেন, সেগুলোর সামগ্রিক প্রেক্ষাপটেই সফরটি দেখা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির ও সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)।
প্রেস সচিব বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব শান্তি, মানবতা এবং বিশ্বায়নের যুগে দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
এম ছালেহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, তিনি জাতিসংঘকে এমন ভূমিকায় দেখতে চান, যেখানে যেকোনো পরিবর্তন আনার হাতিয়ার হবে যুক্তি, আলোচনা, শিক্ষা ও মানবতা; অস্ত্র নয়।’
প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে দেশের নাগরিকদের ক্ষমতায়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে—নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।
তিনি বলেন, জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন পরিকল্পিত উদ্যোগের কথাও প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে তুলে ধরেছেন।
ভাষণ শেষ করার সময় প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা বলেন, যেখানে তরুণেরা নির্দ্বিধায় নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করবে এবং প্রতিটি শিশু নিজের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে। তাঁর ভাষায়, ‘সবার ওপরে মানুষ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পাবে।’
এম ছালেহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর শুধু সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। নিউইয়র্কে চার দিনের সফরে তিনি দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও সাইডলাইন বৈঠকসহ মোট ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরাও প্রায় ৫০টি অতিরিক্ত কর্মসূচিতে অংশ নেন বলে জানান প্রেস সচিব। তাঁর দাবি, এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বক্তব্য ও বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।
সফরে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রেস সচিব। তিনি জানান, সরকারি হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৩৫ জন প্রতিনিধি ছিলেন এবং চার্টার্ড বিমানের পরিবর্তে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে এম ছালেহ বলেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে এনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে মানুষ একে অপরকে সম্মান করবে, বড়রা ছোটদের স্নেহ ও যত্ন করবেন এবং ছোটরা বড়দের শ্রদ্ধা করবে।
দেশের রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গ টেনে প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন দমনপীড়ন ও ভয়ের সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে গেছে। নতুন একটি পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়ে তিনি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি এবং একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘একটি সুন্দর রাষ্ট্র ও মানবিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলার যে সুযোগ এসেছে, আমরা যদি তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হই, তাহলে তা আমাদের কারও জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে না।’
এম ছালেহ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে শুধু সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। সফরকালে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি যেসব বিষয় উত্থাপন ও আলোচনা করেছেন, সেগুলোর সামগ্রিক প্রেক্ষাপটেই সফরটি দেখা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির ও সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক